পুলিশের গড়িমসিতে নিজেই তদন্তে, ধরা ভাইয়ের খুনি

পুলিশের গড়িমসিতে নিজেই তদন্তে, ধরা ভাইয়ের খুনি,

তাঁরা দুই ভাই। বড় ভাই আবুল বাশার, ছোট ভাই আবুল কালাম।

২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল ছোট ভাই কালাম হঠাৎ নিখোঁজ হন।

তাঁর খোঁজে বড় ভাই বাশার থানায় গেছেন, সাধারণ ডায়েরি করেছেন;

যেখানেই লাশ উদ্ধারের খবর এসেছে, সেখানেই ছুটে গেছেন ভাইয়ের লাশটি অন্তত পাওয়ার আশায়।

কিছুতেই যখন ভাইয়ের খোঁজ পাওয়া গেল না, পুলিশও ‘সহযোগিতা করল না’ তখন নিজেই নামলেন অনুসন্ধানে।

খুঁজে বের করলেন সূত্র। তথ্যপ্রমাণ নিয়ে গেলেন থানায়। থানা–পুলিশ অপহরণ মামলা নিতে বাধ্য হলো।

পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ধরল আসামিকে। উদ্‌ঘাটিত হলো আবুল কালামের খুনের রহস্য।

ঢাকার রূপনগর থানার এই হত্যা মামলায় গত জুলাইয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তবে এখনো চার্জ গঠন হয়নি বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী মেহেদি হাসান।

পুলিশের গড়িমসিতে নিজেই তদন্তে, ধরা ভাইয়ের খুনি

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ ঘটনায় দুটি দিক সামনে এসেছে।

, সাধারণ মানুষের কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে থানা–পুলিশ জোর দিয়ে তদন্ত করে না।

আবুল বাশার ও আবুল কালামদের বাড়ি চাঁদপুরে। বাশার ঢাকায় পুরোনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা করেন।

কালাম তাঁর সঙ্গে ঢাকায় থেকে ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। দুজনেই থাকতেন মিরপুরের দুয়ারীপাড়ায়।

তাঁর ছোট ভাই নিখোঁজের পর থানায় জিডি করে তিন মাস থানা-পুলিশের পেছনে ঘুরেছেন।

তবে কোনো সহায়তা পাননি। উল্টো থানা-পুলিশের হয়রানির শিকার হয়েছেন।

তাঁর অভিযোগ, জিডির তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা রূপনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই)

সালমান হাসান সহায়তা না করে এমনও বলেছেন যে কালাম বিয়ে করে আত্মগোপনে আছেন।

এ নিয়ে বেশি বিরক্ত করলে তাঁর (আবুল বাশার) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবুল বাশার বলেন, সহায়তা না পেয়ে একসময় তিনি পুলিশের ওপর হতাশ হয়ে পড়েন।

পুলিশের গড়িমসিতে নিজেই তদন্তে, ধরা ভাইয়ের খুনি

নিজেই শুরু করেন অনুসন্ধান। তাঁর ভাই নিখোঁজের সাড়ে পাঁচ মাস পর লাশ উদ্ধার হয়।

এই সাড়ে পাঁচ মাস কীভাবে অনুসন্ধান চালিয়েছেন, তা গত সোমবার  তুলে ধরেন আবুল বাশার।

তিনি জানান, কোনোভাবে ভাইয়ের খোঁজ না পেয়ে তিনি পরিচিত এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে যান।

ওই কর্মকর্তা প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে জানান যে কালামের মুঠোফোনটি পটুয়াখালীর গলাচিপায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

আবুল বাশার অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, মুঠোফোনটি ব্যবহার করছেন নিখোঁজ আবুল কালামের বন্ধু মো. শামীম, যিনি ঢাকায় দরজির কাজ করতেন।

রপর আবুল বাশার নেমে পড়েন শামীমের খোঁজে। জানতে পারেন, আবুল কালাম নিখোঁজের ১৫ দিন পর

দুয়ারীপাড়া থেকে শামীমের পুরো পরিবার পটুয়াখালীতে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে চলে যায়।

পুলিশের গড়িমসিতে নিজেই তদন্তে, ধরা ভাইয়ের খুনি

আবুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ মামলা নিতে চাইছিল না। কিন্তু আমি ভাইয়ের ফোনের কললিস্টসহ আরও কিছু তথ্য উপস্থাপন করি। একপর্যায়ে পুলিশ মামলা নেয়।’ তিনি জানান, পুলিশ এরপর শামীমের বাবা দেলোয়ার মৃধাকে গ্রেপ্তার করে। তবে তাঁর কাছ থেকে কোনো তথ্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি। শামীমকেও ধরতে পারেনি।থানা–পুলিশের হাতে মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি জানিয়ে আবুল বাশার বলেন, পরে মামলাটি ডিবিতে যায়।ডিবি হত্যার ঘটনায় জড়িত চারজনের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করতে পারেনি। তাঁদের নাম বাদ দিয়ে ২০২০ সালের আগস্টে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। যদিও মামলার বাদী আবুল বাশার আদালতে নারাজি দেন। মামলার তদন্তভার যায় পিবিআইয়ের হাতে। পিবিআই পলাতক দুই আসামি আলী আকবর ও সুমন কুমারকে গ্রেপ্তার করে।

পিবিআই ঢাকা মহানগরের (উত্তর) পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম  , তাঁদের হাতে গ্রেপ্তার দুই আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আবুল বাশার মুঠোফোনের যে সূত্র ধরে অনুসন্ধান করেছেন সেই কাজটি থানা–পুলিশের করার কথা। তাহলে আবুল বাশারকে এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না। অনেক সময় দেখা যায়, তদন্তে গাফিলতির কারণে হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয় না। অপরাধী ধরা পড়ে না।জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় থানা–পুলিশের গাফিলতি ছিল। তাদের উচিত ছিল প্রয়োজনে অন্য বিভাগ থেকে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে জিডির তদন্ত করা। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ কোনো জিডি করলে খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও উচিত বিষয়গুলো তদারকি করা।

আরও জানতে ভিজিট করুনঃ   klub-news.xyz

About work

Check Also

দুই ভারতীয় শিক্ষার্থীর ছিনিয়ে নেওয়া মালামালসহ সাত জন গ্রেফতার

দুই ভারতীয় শিক্ষার্থীর ছিনিয়ে নেওয়া মালামালসহ সাত জন গ্রেফতার

দুই ভারতীয় শিক্ষার্থীর ছিনিয়ে নেওয়া মালামালসহ সাত জন গ্রেফতার, ভারত থেকে পড়তে আসা দুই শিক্ষার্থীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published.